আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে সরিষাবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী 'ঢেঁকি'


মোঃ রেজাউল করিম (জামালপুর) প্রতিনিধি: আধুনিকতার উৎকর্ষের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্রাম বাংলার এক সময়ের কৃষান কৃষাণীদের ভালো মানের চাল তৈরির প্রধান মাধ্যম কাঠের ঢেঁকি।

গ্রামেগঞ্জে এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ। গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় এক সময় ঢেঁকি দিয়ে চাল তৈরি, চিড়া ভাঙ্গা, আটা, পায়েসের চালের গুড়ো, খির তৈরির চাল, কুমড়ো আর কলাই দিয়ে সুস্বাদু ডালের বড়ি বানানোর সেই ঢেঁকি আজ অসহায় হয়ে পড়েছে ইঞ্জিন চালিত মেশিনের কাছে। ধান ভানা, চাউল গুড়ো করা, বড়ি তৈরি করা, আটা তৈরি চালের গুড়াসহ ঢেঁকির যাবতীয় কাজ করছে ইঞ্জিন চালিত মিশিনে।


ঢেঁকির প্রচলন কালের বিবর্তনে কমে গেলেও পোষ মাসে আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়নে এর ব্যবহার বেড়ে যায়। এসময় শীতের পিঠা পুলি তৈরির মুল উপাদান চাল গুড়ো তৈরির জন্য কাঠের ঢেঁকির কদর বেড়ে যায়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের জমিলা বেগম জানান, 'আমার শ্বাশুড়ির আমল থেকেই এই বাড়িতে ঢেকি আছে। পারিবারিক প্রয়োজন খুব বেশি ব্যবহার না করলেও শীতের সময় চাল ভাঙানোর জন্য প্রতিবেশীরা ভিড় জমায়।' সত্যিই এর কদর একেবারে শেষ হচ্ছে না।


গোপালগঞ্জ গ্রামের জাহানারা বেগম জানায়, ঐতিহ্যবাহী ঢেকি অনেকটা স্মৃতির জন্য ধরে রেখেছি প্রায় ২০ বছর ধরে। এই ঢেকিতে ধান ভাঙা ও চিড়া ভেঙ্গে আসছি। এলাকার লোকেরা চাল ভেঙ্গে নেওয়ার জন্য আসে।  ঢেকির গুণ সম্পর্কে প্রবাদ বাক্য রয়েছে 'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে'। গ্রামীণ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাপ-দাদার মাটির ঘর-বাড়ি নতুন তৈরি করছে। আর তাতে জায়গা থাকছে না ঢেকি রাখার। তাই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি বিলুপ্তির পথে।

No comments

Powered by Blogger.