দাফনের ২২ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দাফনের ২২ দিন পর  কবর থেকে লাশ উত্তোলন


সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দাফনের ২২ দিন পর বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার আদালতের নির্দেশে উপজেলার ফুলদহ গ্রামের পারিবারীক কবরস্থান থেকে নিহত ফজলুল হক (৪০)এর লাশ ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে দশ টার দিকে আদালতের নির্দেশে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফুলদহ নয়াপাড়া গ্রামের অহেদ আলীর পুত্র বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী ফজলুল হককে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যার পর একই গ্রামের ব্যবসায়ী মোঃ এরশাদ (পিতা- মৃত আঃ সাত্তার) বড় একটা কাঠের চালান পাওয়া গিয়াছে অজুহাতে জামালপুর যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে এরশাদের চাচা ওয়াহাব মিয়া সংবাদ দেয় ফজলুল হক এ্যাক্সিডেন্ট করেছে। পরে জানতে পারে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়ার পথে ফজলুল হক মৃত্যু বরণ করেছে। ফজলুল হকের লাসের ডান হাত ভাঙ্গা এবং হাতে ২টি কামড়ের দাগ রয়েছে। এতে করে হত্যার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
এ ছাড়াও কাঠ ব্যবসায়ী ফজলুল হকের নিকট থেকে মোঃ এরশাদ ৪লাখ টাকা হাওলাত এবং ব্যাংক থেকে সিসি লোন করে দেয়ার জন্য ৩টি দলিলের মূল কপি নিয়েছেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান। হত্যার বিষয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আঞ্জুয়ারা খাতুনের অভিযোগের প্রেেিত ভাটারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বাদল উভয় পকে নিয়ে বৈঠক করেন।


২৩ ফেব্রুয়ারী দুপুরে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজের নতুন ভবনের ৪ তলায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন গত ২৭ ফেব্রুয়ারী আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এরশাদ (৩৫) প্রধান আসামী করে ওয়াহাব, গফফারসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হয়েছে।


আদালতের নির্দেশে ১২ মার্চ মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে ফজলুল হকের লাশ উত্তোলন করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

সরিষাবাড়ী থানার এস আই রকিবুজ্জামান বলেন, নিহত ফজলুল হকের লাশ উত্তোলন করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফজলুকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

No comments

Powered by Blogger.