শ্রীবরদীতে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্রীবরদীতে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের শ্রীবরদীর গোশাইপুর ইউনিয়নের উত্তর গিলাগাছা গ্রামের ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদে এবং উচ্ছেদকৃত ভূমিহীনদের পূণর্বাসনের দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উত্তর গিলাগাছার কুচনীপাড়া সড়কে এক ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করেছে উচ্ছেদকৃত ভূমিহীন পরিবার ও এলাকাবাসী।


উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গোশাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম যোবায়েল ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট গিলাগাছা বন্দর গুচ্ছগ্রাম নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। উক্ত প্রস্তাবটি ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট গিলাগাছা বন্দর গুচ্ছগ্রাম নামে অনুমোদন হয় এবং মাটি ভরাট কাজের জন্য ১০৭.৭৩৮ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারী থেকে ওই গ্রচ্ছগ্রামের কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে শ্রীবরদীর গোশাইপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা গ্রামের উচ্ছেদকৃত ভূমিহীন পরিবারের পে আব্দুল হামিদ, রবিউল ইসলাম, আব্দুস ছাত্তার, রাজা মিয়া, বাদশা মিয়া, হযরত আলী, আব্দুল হান্নান, আশরাফ আলী, আবুল হোসেন বলেন, উত্তর গিলাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আরএস ১১৫৩ নং দাগের ৩.৩২ একর ভূমিতে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছি। এখানে আমরা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, গাছ-পালা রোপন, পুকুর খনন ও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। উক্ত ভূমি থেকে ৫০ শতাংশ রবিউলের নামে এবং ১.০৯ শতাংশ ভূমি আব্দুল হামিদের নামে শ্রীবরদী-গোশাইপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃক নামজারী ভূক্ত করা হয়েছে। একই ভূমিতে উত্তর গিলাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান মাটি ভরাটের কাজ করতে গিয়ে বসতকৃত ১৫টি পরিবারের মধ্যে ১৩টি পরিবারকে জোড় পুর্বক ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ও গাছ-পালা কেটে উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া, ফসলের জমি ও পুকুর ভরাট করে গুচ্ছগ্রামের কাজ অব্যাহত রাখার চেস্টা করলে গ্রামবাসী প্রতিবাদ করায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

ফলে উচ্ছেদকৃত ১৫ টি ভূমিহীন পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। একমাত্র মাথাগুজার ঠাই নিজেদের বসতভিটা গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প কেড়ে নেওয়ায় চরম হতাশায় ভূগছে ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা। ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ভূমিহীন পরিবার গুলোকে উচ্ছেদ করে যাতে গুচ্ছগ্রাম তৈরী না করতে পারে সেজন্য ভূক্তভোগী রবিউল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ শেরপুর আদালতে অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীগণ যাতে বাদী পরে ভূমি জোড়পূর্বক বেদখল করে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করতে না পারে তৎমর্মে শেরপুর বিজ্ঞ আদালত উক্ত ভূমিতে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম যোবায়েল ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান জোরপূর্বক উক্ত প্রকল্পের কাজ করার চেস্টা চালাচ্ছে।


গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজের সভাপতি ছিলাম। মাটি ভরাটের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে গোশাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম যোবায়েল জানান, লোকমুখে শুনেছি কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদী লোক নিজেদের স্বার্থে মানববন্ধন করেছে। তবে আশ্রয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্ছেদকৃতদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উচ্ছেদের ঘটনা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে উচ্ছেদকৃত ভূমিহীন পরিবারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.