নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর পূর্বধলা এখন বিষাদের শহর

পূর্বধলায় সর্বত্র নীরবতা নেমে এসেছে। ক্লান্তিহীন ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ থমকে গেছেন প্রার্থীরা। পাড়া-মহল্লা

সাদ্দাম হোসেন: পূর্বধলায় সর্বত্র নীরবতা নেমে এসেছে। ক্লান্তিহীন ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ থমকে গেছেন প্রার্থীরা। পাড়া-মহল্লা, অফিস আদালত ও চায়ের দোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গনে চলছে একই আলোচনা। বিভিন্ন মোড়ে চায়ের দোকানগুলোতে ঝিম মেরে বসে আছেন অনেক মানুষ।

চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে চোখেমুখে। হাসি নেই কারও মুখে। এক দিন আগেও সরব মানুষগুলো এখন ভাষাহীন। হতাশায় নিমজ্জিত মানুষগুলোর জিজ্ঞাসা, কেন এমন হলো! নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১০ মার্চ প্রথম দফায় পূর্বধলা উপজেলা নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, পোষ্টার ছিড়ে ফেলা, আচারণ বিধি ভঙ্গ ইত্যাদি অভিযোগ থাকায় তা স্থগিত করা হয়। নেত্রকোনার জেলার মোট ৮ উপজেলায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো- নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, দূর্গাপুর, খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও মদন। প্রথম পর্যায়ে চার বিভাগের ১২ জেলার ৮৩ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন উপজেলা বাদ পড়ায় ৮০ উপজেলায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থী ও ভোটাররা। আকস্মিক যেন একটি ঝড় বয়ে যাওয়ার পর নিস্তব্ধ চারপাশ। নির্বাচন বন্ধ হওয়ার পর আদৌ নির্বাচন হবে কিনা? এমনটা ভেবে মহিলা ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। প্রার্থীরা অনেক বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি নিয়েও চিন্তিত।

প্রার্থীদের অনেকেই জমানো টাকা খরচ করে, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের থেকে ধার-দেনা করে ঋণী হয়ে গেছেন। জয়ী হবেন এমন আশায় অনেকে নিজের মূল্যমান জিনিসপত্র ও জমি বিক্রি করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। গতকাল (১০ মাচ) সকালে গিয়ে বদলে যাওয়া পূর্বধলার চিত্র চোখে পড়ে। মাইকে প্রচারের আওয়াজ নেই, কর্মী বা প্রার্থীদের জনসংযোগ নেই। রাস্তায় রাস্তায় দল বেঁধে মানুষের ছোটাছুটি নেই কোথাও। স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে কোনো ব্যস্ততা নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চুপচাপ বসে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, ‘সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১০০ মাইল গতিতে দৌড়াচ্ছিলাম, হঠাৎ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক ধাক্কায় এখন সবাই ক্লান্ত।’ ‘নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। আমরা তা-ই করেছি। এখন কমিশনের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় আছি।’ পূর্বধলা উপজেলার প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা উৎসব ফিরে পেতে চায় সবাই। তারা বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটা উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটাররা অপেক্ষমাণ ছিলেন। নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়াতে উৎসবে ভাটা পড়েছে।

No comments

Powered by Blogger.